মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ নভেম্বর ২০১৬

নকশি পাটি

পাটি বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশেষ উপাদান। এর ব্যবহার বহুপ্রাচীন ও বহুবিধ। বাঙালি সংস্কৃতিতে আধুনিক আসবাবপত্রের অনুপ্রবেশের পূর্বে পাটির ব্যবহার ছিল পর্যাপ্ত। দৈনিন্দন প্রয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাটি ব্যবহৃত হতো। অতীতের ন্যায় বর্তমানেও বিবাহে অন্যান্য দ্রব্যের সঙ্গে পাটি উপহার দেওয়া হয়। এ পাটিতেই যখন নকশা তুলে আকর্ষণীয় করা হয় তখন তাকে বলা হয় নকশি পাটি।

মুর্তা গাছকে অঞ্চলভেদে মোস্তাক, পাটি পাতা, পাটি বেত ও পাইতারাও বলে। এ গাছ বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্রগামের জলাশয়ের ধারে জন্মে। তবে বর্তমানে এর দ্ধারা তৈরি নকশি পাটি অনেকটা সিলেট ও নোয়াখালী জেলায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

মুর্তাগাছের একটি কান্ড থেকে সাত/আটটি সরু বেতি বের করা যায়। এগুলি রোদে শুকিয়ে পাকাপোক্ত ও চকচকে ভাব আনার জন্য তেঁতুল ও কাউপাতি দিয়ে সেদ্ধ করা হয়। অনেক সময় ভাতের মাড়ও ব্যবহার করা হয়। নকশা তোলার জন্য ব্যবহূত বেতিতে রং দিয়ে সেগুলি রঙিন করা হয়। জমিনে ব্যবহূত বেতিতে রঙের প্রয়োজন হয় না। মুর্তা গাছের পাটি যেমন আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসন্মত, তেমনি দৃষ্টিনন্দন।

মুর্তা পাটির বুনন পদ্ধতি প্রধানত দুই ধরনের । প্রথমে জমিনের জো তুলে তাতে রঙিন বেতি দিয়ে নকল তোলা হয়। পরে জমিন তৈরি হলে তার চতুর্দিকে অন্য রঙের বেতি দিয়ে মুড়ি দেওয়া হয়। প্রতিটি পাটির বুনন পদ্ধতি অত্যন্ত শিল্পসম্মত। এ পাটি কয়েক ধরণের হয়ে থাকে।

বেতের পাটি সর্বাধিক সমাদৃত এ পাটি তৈরির জন্য প্রথমে সবুজ বেত কেটে সোডার পানি দিয়ে ধুয়ে শুকানো হয়। তার পর পাতলা করে চিরে সেদ্ধ করে পুনরায় শুকানো হয়। শুকানোর পর বেতিগুলিকে প্রয়োজনানুসারে বিভিন্ন  রঙে রঞ্জিত করে পাটি বোনা হয়। প্রধান বুনটের বেতি এক রঙের হলে পোড়নের বেতি অন্য রঙের হয়ে থাকে। বেশির ভাগ পাটিতেই বৃক্ষ, লতা, পশুপাখি, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা হয়। নকশা গুলে সাধারণত পাটির মধ্যবর্তী অংশে আয়তাকার ক্ষেত্রের মধ্যে করা হয় এবং চর্তুদিকে থাকে নানা ধরণের বর্ডার নকশা। অনেক সময় বৃত্তাকৃতির নকশার মধ্যে পদ্ম সদৃশ্য নকশা ও করা হয়। কোন কোন পাটিতে চৌপাট থাকে, যেখানে সমান চারটি চতুর্ভুজ ও চারটি সমান খালি জায়গা থাকে। বেতের পাটিই শীতল পাটি নামে পরিচিত এবং এর জনপ্রিয়তাই সর্বাধিক।


Share with :
Facebook Facebook